April 2026

শ্রী শ্রী হরিলীলামৃত।

শ্রদ্ধাঞ্জলি।

পয়ার।

হরিবল, হরিবল, হরিবল, হরি।

জোড় হাতে বন্দি আমি মাতা পিতা পদে।

দেখিলাম এই বিশ্ব যাদের কৃপাতে ॥

চিত্তের অন্ধকার দূরীকরণ তরে।

গুরু হস্তে অর্পন করলেন সাদরে ॥

নমি সেই গুরুমাতা পিতার চরণে।

পদছায়া দিয়া রেখ জীবনে মরণে ॥

মহাজ্ঞান শিক্ষা দিল হরিবল সদা।

নামের সহিত হরি থাকেন সর্বদা ॥

সেই হরি অবতীর্ণ ওড়াকান্দি ধামে।

পতিত উদ্ধারিতেএলেন ধরাধামে ॥

প্রণমী শ্রী শান্তিহরি ক্ষীরোদ বিহারী। 

তুমি ব্রহ্মা তুমি বিষ্ণু মহেশ্বর  তুমি ॥

সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়েতে তুমি সর্বেশ্বর।

তোমার চরণে আমি নমি বার বার ॥

যুগমন্নন্তর কতগেল এল কতবার।

কতনা করিলে লীলা এই ধরাপর ॥

এই মনুতে নাভী পদ্মে জন্মে ব্রহ্মাদেব।

দেব নরে তাঁর নাম, রাখে পদ্মনাভ ॥

সৃষ্টি রক্ষা চিত্ত সুখ কর্মাদি সাধিতে।

নিজ মায়া হতে কত দেবতা সৃজিলে ॥

অর্পিলে কর্মের ভার তাঁদের সকলে।

জানা অজানা কতনা নামে সম্ভাষিলে ॥

ধনময়ী ধনদান করেন কমলা।

মহাজ্ঞানে দানে রত আছেন নির্মলা ॥

পরা অপরা বিদ্যা, ধনভান্ডার যাহা।

নিজ পুরীর শোভা হেতু রাখিলে দোঁহা ॥

বাণী লক্ষ্মী দুই শক্তি মিলন করিয়ে।

মধুর মাধুরী লীলা কতনা করিলে ॥

প্রতিযুগে ধারধামে লীলা প্রকাশিতে।

নিজ মায়া বল শক্তি আনিলে সঙ্গেতে ॥

শেষ লীলাতে ওড়াকাদি পূর্ণশক্তি নিয়া।

পেয়ে পুত্র মহেশ্বর জুড়াইলেহিয়া ॥

দুই শক্তির মিলনেতে পতিত উদ্ধারিলে।

পতিতের কল্যানেতে মিশন গঠিলে ॥

কাল বশে লুপ্ত প্রায় তব স্মৃতি চিহ্ন।

মতুয়ারা দিশেহারা হল ছিন্ন ভিন্ন ॥

অন্তর্যামি হরি তুমি জানিলে অন্তরে।

পদ্মনাভ নামটি ধরে এলে ধরাপরে ॥

প্রতিযুগে লক্ষ্মী মাকে সঙ্গে নিয়েছিলে।

এ লীলাতে বর্নেশ্বরী বানীকে আনিলে ॥

ত্রিপদী।

নমি মাতা সরস্বতী, নরাকারে লীলাব্রতী,

অমৃত লোকেতে ব্রহ্মময়ী।

গোলোক ভূবন হতে, নেমে এলে অবনীতে,

সুবর্ণা নামতে হলে স্বতী ॥

জ্ঞান চক্ষু যার খুলে, চেনে পরশ পাথরে,

আমি অধম না চিনি তোমারে।

তুমি মাতা বর্ণেস্বরী, দাও মোরে পদধূলী,

নত শিরে প্রণমী চরণে ॥

একদা শ্রী ধামে বসে, সন্ধা পূজা অবশেষে,

আদেশিলে পুঁথি লিখিবারে।

রসরাজ হস্তে লেখা, লীলামৃত গৃন্থ ছাপা,

রচনা করিতে গদ্যাকারে ॥

গুঢ়রস আছে যত বিশ্লেষিবে সব তথ্য,

হস্তের স্বার্থক মোর হবে।

তবু মনে ভয় জাগে, বর্ণ জ্ঞান নেই ঘটে,

বামনের পেতে ইচ্ছা চাঁদে ॥

অভয়া ধরিলে হাত, সাগর হয় গোম্পদ,

তরী নাহি লাগে পারে যেতে।

মাতৃ বাক্য শিরে ধরে, গলেতে বসন জুড়ে

দন্তে তৃন ধরি দুই হাতে ॥

নত জানু হয়ে সদা, ভূমে পড়ি লুটিমাথা

দাও জ্ঞান পঞ্চ পঞ্চাশৎ।

নহি মুনি সুখ, ব্যাস, নাবাল্মিকী, কালিদাস,

শ্রী তারক কবি রসরাজ ॥

হরি লীলা লেখকেরা, বর পুত্র ছিল তারা,

তারা সবে পেল আশীর্বাদ।

পুত্র হব আমি তব, তুমি হবে মাতা মম,

লিখিব লিখাবে ধরে হাত ॥

যেমতি পুত্রের মাতা, হাতে ধরে তালপাতা,

পুত্রেরে শিখায় বর্ণমালা।

তেমনি প্রকারে তুমি, হরি লীলাগ্রন্থখানি,

লিখিতে করনা অবহেলা ॥

কল্পনার এ জগতে, সবকিছু সত্যবটে,

তুমি সত্য সত্য তব লীলা।

অন্তহীন তব লীলা, ভক্ত হৃদে দেয় দোলা,

কেবল প্রেমভক্তির খেলা ॥

বেলা কিম্বা অবেলাতে, দেখাদেও ভক্ত হৃদে

হলে চিত্তশুদ্ধ দেল খোলা।

বসাইয়ে হৃদাসনে, পুজেকত ভক্ত জনে,

বসিয়া নিরজনে একেলা ॥

বড়সাধ জাগেমনে, পুজিতে রাঙ্গা চরণে,

মন্ত্র তন্ত্র কিছুই না জানি।

এ পূজা নয় সে পূজা, লাগেনা নৈবেদ্যকলা,

ব্রাহ্মণ্যবাদ, তাহা নাহি মানি ॥

এ দেহ জংলাভূমি, পতিত ময়লা জমি,

নিজগুনে দয়াকর তুমি ॥

ভক্ত প্রতি দয়া কর, নিজ হাতে ঝাড়– ধর,

পরিচ্ছন্ন কর দেহ ভূমি ॥

ছোট্ট হৃদয়ের কোনে, অজ্ঞানের বেদীমুলে,

দাড়াও মা সুবর্ণা এবারে।

তব জ্যোতির আলো, দেহ কোনে দ্বীপ জ¦ালো,

সে আগুনে পোড়াও সবারে ॥

দশে ছয়ে ষোল জনা, পুড়ে তারা হবে সারা,

পুনঃজন্মে নিবে গোপীকুলে।

সাজিয়া গোপিনীবেশে, নানা জাতি ফুল তুলে,

গেঁথে মালা মালাতে সাজাবে ॥

মা, তব আচল খানা, শিরেতে ঘোমটা টানা,

দিয়ে মালা যতনে সাজাবে।

মালার উপরে মালা, মস্তকেতে দিলে তারা,

চূড়া রূপে তখনে শোভিবে ॥

ললাটের মধ্যভাগে, আলক্ত করবী ফুটে,

শোভা পাবে ত্রিনয়নী রূপে।

সুবর্ণ চাঁপার ফুলে, ছোট ছোট মালা গেঁথে,

দুকর্ণে দিবে ঝুমকা করে ॥

কুসুম পরাগ নিয়ে, রঙ্গীন অভ্রবানিয়ে,

দুই গন্ডে দিবে মাখাইয়ে।

হবে চাঁদের জ্যোৎস্না, পরাগের আলপনা,

মুখচন্দ্রে চন্দ্রিমা শোভিবে ॥

হরিনী নয়না ভ্রুতে মনো-কালিমা তুলিতে,

কজ্জলের রেখা দিবে একে।

চামিলী বেলীতে মিলে-মালা গেঁথে দিবে গলে,

থরে বিথরে দিবে সাজায়ে।

দক্ষিণের সমীরনে, হীল্লোলে কল্লোলে দুলে,

দেখাবে সুরবালা ভূতলে ॥

বাহুতে বাজুবন্ধন, হস্তেতে শে^ত কঙ্কন,

মালায় মালা দিয়ে সাজাবে।

রক্ত গাঁদার ফুলে, নুপুর বানিয়ে পদে,

দিবে মালা আনন্দ হৃদয়ে ॥

গোপীদের বহিরঙ্গ, আছে যত রঙ্গব্যঙ্গ,

মনের মাঝেতে দোল্যমান।

তুলে রং তুলি দিয়ে, দিবে বিংশতি নখে,

হবে কোটি চন্দ্রের সমান ॥

ব্রহ্মময়ী মুর্তি হেরে, গোপীগন চিত্তসুখে,

আনন্দেতে নৃত্য গীতে রবে।

এ খোকার স্পর্ধাভরি, যেতে চায় শান্তিপুরী,

অষ্ট পাশ দুর হবে কবে ॥

তুমি যাবে শান্তিপুরে, যুগল মুরতী ধরে,

দাড়াইবে পদ্মনাভ বামে।

যুগল মিলন দেখে, মন সাধ মিটাইয়ে,

মহা ঘুমে ঘুমাইয়া রবে ॥

পরবর্তী পর্বে  

শ্রী শ্রী হরি লীলামৃত

আদিখন্ড।

ওঁ শান্তি হরি চন্দ্রায় নমঃ নমঃ নমঃ।


হরিবল, হরিবল, হরিবল। শ্রদ্ধেয়, ভক্ত মন্ডলী! শ্রী শ্রী হরি লীলামৃত গ্রন্থ খানিগদ্য আকারে লিপিবদ্ধ করিতে যাইয়া মম হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার হইতেছে। পবিত্র ময় শ্রী হরির লীলা উপাখ্যান বর্ননা করিতে যাইয়া হস্তদ্বয় কম্পমান হইতেছে। কারণ যে লীলামৃত গ্রন্থখানি রচনা করিতে শ্রীমৎ তারক গোস্বামী, নিজেই অক্ষমতা প্রকাশ করিয়া ছিলেন। সেই শ্রী শ্রী হরি লীলামৃত গ্রন্থ খানি আমি মুঢ় ব্যক্তি দিগের ন্যায়, মাতা সুবর্ণা ঠাকুরানীর মুখের কথা মুখে থাকিতেই অকপটে স্বীকার করিয়াছিলাম। আমি এতই মূর্খ যে, একবার ও ভাবিয়া দেখি নাই ইতি পূর্বে শ্রীধাম ওড়াকান্দি এবং বিভিন্ন দেশ বিদেশের ভক্ত বৃন্দগন হইতে যাহারা স্বর্ণ পদকাদি অলঙ্কারে ভূষিত রহিয়াছেন। যাহারা শিক্ষা দীক্ষায় জ্ঞান গরিমায় মতুয়া সমাজের উচ্চ স্তরের সাধক লেখক হইয়া, শ্রীধাম ওড়াকান্দি এবং ওপার বাংলার শ্রীধাম ঠাকুর নগরের মতুয়া সমাজকে উন্নতির শিখরে পৌছাইয়া দিতে বহু বহু গ্রন্থাদি রচনা করিয়া, মতুয়া ভক্ত দিগের নিকটে স্মরনীয়, পূজনীয় হইয়া রহিয়াছেন।সেই সমস্ত শাস্ত্রজ্ঞ সাধুগুরু পন্ডিত দিগের ক্রীত দাসরূপে চরণ সেবার পরিবর্তে, তাহাদের সভামধ্যে উপবেশন করিবার ধৃষ্টতা নিতান্তইগল্প কাহিনী কূপ মন্ডুকের ন্যায় কল্পনা করা। [পাত কুয়ার মধ্যে থাকা ব্যাঙটি ঐ কুয়াকে ব্রহ্মান্ড বলিয়া মনে করিত।]

এখন এই গ্রন্থখানি লিখিতে বসিয়া মনে হইতেছে ভক্ত সমাজে উপহাসের পাত্র করিবার জন্য, ভাগ্য বিধাতা সেই দিন এই  জ্ঞানটুকু  প্রদান করেন নাই যে, ইতি পূর্বে পশ্চিম বঙ্গের কোন এক শহরের উপকন্ঠে বসবাস কারী কোন এক মহাত্মা, এই ‘‘লীলামৃত’’ গ্রন্থখানি গদ্যাকারে লিপিবদ্ধ করিয়া ভক্ত সমাজে সমাদৃত হইয়া রহিয়াছেন। তাহা ছাড়া বর্তমানে এপার বংলার বাঘেরহাট জেলার রামপাল উপজেলাধীন বাঁশতলী গ্রামের মহাত্মা বিষ্ণুপদ বাগচী মহাশয়, যিনি বহু বহু সংস্থা হইতে ¯ স্বর্ণপদকাদি প্রাপ্ত হইয়াছেন। তিনিও এই শ্রী শ্রী হরি লীলামৃত গ্রন্থের মধ্য হইতে অনেক অনেক মহাত্মাদিগের জীবন উপাখ্যান লিপিবব্ধ করিয়া ভক্ত সমাজে প্রকাশ করিয়াছেন। পরবর্তী কালে আরও অন্যান্য ভক্ত দিগের জীবন বৃত্তান্ত প্রকাশ করিতে প্রবৃত্ত রহিয়াছেন। তাই দুরু দুরু বক্ষে কম্পিত হস্তে কেবল মাত্র ৮ম শ্রেনী পাশের নির্বোধ ক্ষুদ্র জ্ঞানের পরিসরে, মতুয়াচার্য বাবা পদ্মনাভ ও মাতা সুবর্ণা ঠাকুরানীর সেই ইচ্ছাকে পূর্ণ করিতে পারিব, না অপূর্ণ থাকিয়া যাইবে?

সেই অকুলের কান্ডারী বাবা পদ্মনাভ ও মাতা সুবর্ণা ঠাকুরানীর অশেষ করুনার দানে এই শ্রী শ্রী হরিলীলামৃত গ্রন্থখানি সাধুও চলিত ভাষার মিশ্রনে,গদ্যাকারে নব নবায়ন রূপে প্রকাশ হইয়া, সহস্র সহস্র ভক্তের মধ্যে  যদি একটি মাত্র ভক্তের জীবনে আলোকপাত করিতে সাহায্য করে, তাহা হইলে এই অধমের অক্লান্ত পরিশ্রম সার্থক হইবে।

যাহা হউক এই জগতে প্রতিটি সন্তানের প্রকৃত কর্তব্য পিতা মাতার আদেশ পালন করা। তাই সাক্ষাৎ দেবতা। মহা মতুয়াচার্য শ্রী শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুর ও সাক্ষাৎ ভগবতী অংশে জন্ম দেবী সুবর্ণা ঠাকুরানীর কৃপার আশীষ মস্তকে ধারন করিয়া, এই শ্রী শ্রী হরিলীলামৃত গ্রন্থ খানি গদ্য আকারে লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়া, সর্ব্বাগ্রে স্বীয় জনক, জননী ও স্বীয় গুরু পিতা মাতার চরনে জানাইতেছি অসংখ্য অসংখ্য বার প্রনতি । আমি প্রনাম জানাই সেই অনাদির আদি শ্রী শ্রী হরিচাঁদ শান্তি মাতা ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ সত্যভামা ও ভগবান শ্রী শ্রী গুরুচাঁদের পরবর্তী কাল হইতে অদ্যাবধি যাহারা শ্রীধামকে অলংকৃত করিয়া রাখিয়াছেন। আমি আরও প্রণাম জানাই শ্রী ধামের একান্ত অনুরাগী ভক্ত মন্ডলী শ্রীমৎ গোলোক, তারক,লোচন, হীরামন, মৃত্যুঞ্জয়, দশরথ, বদন চাঁদয়াদি নাম না জানা অগনিত মহাত্মাদিগের শ্রী পাদ পদ্মে। আমি প্রণাম জানাই এই অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের সমুদয় দেবতা গন্ধর্ব কিন্নরাদি ও সমুদয় ভক্ত মন্ডলীর শ্রী পাদ পদ্মে।তাঁহারা যেন আমার এই হীনতম স্পর্দ্ধাকে ক্ষমা করিয়া শুভ আশীষ প্রদান করেন। পরিশেষে আমি আবার ও নতজানু হইয়া প্রণাম নিবেদন করিতেছি, সেই মহাত্মা শ্রীমৎ তারক গোস্বামীর শ্রীপাদ পদ্মে। তাঁহার চরনে এই মিনতি রহিল, হে স্বামীন! তুমি যেখানে যে দেশে থাক না কেন, অধম পামর দুরাচারী এই মুঢ়ের হৃদয় অসনে উপবেশন করিয়া তোমারই রচিত লীলামৃত গ্রন্থ খানির গুড় রহস্য গুলির ভাবতত্ত,¡ তুমি আমার মধ্যদিয়া প্রকাশ করিয়া এই গ্রন্থখানি নব নবায়ন রূপে, সকল ভক্তের নিকটে গ্রহনযোগ্য করিয়া দাও।

পরবর্তী পর্ব 

Author Name

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.