শ্রী শ্রী হরিলীলামৃত। (আদি খন্ড পর্ব ০২)
শ্রী শ্রী হরিলীলামৃত।
শ্রদ্ধাঞ্জলি।
পয়ার।
হরিবল, হরিবল, হরিবল, হরি।
জোড় হাতে বন্দি আমি মাতা পিতা পদে।
দেখিলাম এই বিশ্ব যাদের কৃপাতে ॥
চিত্তের অন্ধকার দূরীকরণ তরে।
গুরু হস্তে অর্পন করলেন সাদরে ॥
নমি সেই গুরুমাতা পিতার চরণে।
পদছায়া দিয়া রেখ জীবনে মরণে ॥
মহাজ্ঞান শিক্ষা দিল হরিবল সদা।
নামের সহিত হরি থাকেন সর্বদা ॥
সেই হরি অবতীর্ণ ওড়াকান্দি ধামে।
পতিত উদ্ধারিতেএলেন ধরাধামে ॥
প্রণমী শ্রী শান্তিহরি ক্ষীরোদ বিহারী।
তুমি ব্রহ্মা তুমি বিষ্ণু মহেশ্বর তুমি ॥
সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়েতে তুমি সর্বেশ্বর।
তোমার চরণে আমি নমি বার বার ॥
যুগমন্নন্তর কতগেল এল কতবার।
কতনা করিলে লীলা এই ধরাপর ॥
এই মনুতে নাভী পদ্মে জন্মে ব্রহ্মাদেব।
দেব নরে তাঁর নাম, রাখে পদ্মনাভ ॥
সৃষ্টি রক্ষা চিত্ত সুখ কর্মাদি সাধিতে।
নিজ মায়া হতে কত দেবতা সৃজিলে ॥
অর্পিলে কর্মের ভার তাঁদের সকলে।
জানা অজানা কতনা নামে সম্ভাষিলে ॥
ধনময়ী ধনদান করেন কমলা।
মহাজ্ঞানে দানে রত আছেন নির্মলা ॥
পরা অপরা বিদ্যা, ধনভান্ডার যাহা।
নিজ পুরীর শোভা হেতু রাখিলে দোঁহা ॥
বাণী লক্ষ্মী দুই শক্তি মিলন করিয়ে।
মধুর মাধুরী লীলা কতনা করিলে ॥
প্রতিযুগে ধারধামে লীলা প্রকাশিতে।
নিজ মায়া বল শক্তি আনিলে সঙ্গেতে ॥
শেষ লীলাতে ওড়াকাদি পূর্ণশক্তি নিয়া।
পেয়ে পুত্র মহেশ্বর জুড়াইলেহিয়া ॥
দুই শক্তির মিলনেতে পতিত উদ্ধারিলে।
পতিতের কল্যানেতে মিশন গঠিলে ॥
কাল বশে লুপ্ত প্রায় তব স্মৃতি চিহ্ন।
মতুয়ারা দিশেহারা হল ছিন্ন ভিন্ন ॥
অন্তর্যামি হরি তুমি জানিলে অন্তরে।
পদ্মনাভ নামটি ধরে এলে ধরাপরে ॥
প্রতিযুগে লক্ষ্মী মাকে সঙ্গে নিয়েছিলে।
এ লীলাতে বর্নেশ্বরী বানীকে আনিলে ॥
ত্রিপদী।
নমি মাতা সরস্বতী, নরাকারে লীলাব্রতী,
অমৃত লোকেতে ব্রহ্মময়ী।
গোলোক ভূবন হতে, নেমে এলে অবনীতে,
সুবর্ণা নামতে হলে স্বতী ॥
জ্ঞান চক্ষু যার খুলে, চেনে পরশ পাথরে,
আমি অধম না চিনি তোমারে।
তুমি মাতা বর্ণেস্বরী, দাও মোরে পদধূলী,
নত শিরে প্রণমী চরণে ॥
একদা শ্রী ধামে বসে, সন্ধা পূজা অবশেষে,
আদেশিলে পুঁথি লিখিবারে।
রসরাজ হস্তে লেখা, লীলামৃত গৃন্থ ছাপা,
রচনা করিতে গদ্যাকারে ॥
গুঢ়রস আছে যত বিশ্লেষিবে সব তথ্য,
হস্তের স্বার্থক মোর হবে।
তবু মনে ভয় জাগে, বর্ণ জ্ঞান নেই ঘটে,
বামনের পেতে ইচ্ছা চাঁদে ॥
অভয়া ধরিলে হাত, সাগর হয় গোম্পদ,
তরী নাহি লাগে পারে যেতে।
মাতৃ বাক্য শিরে ধরে, গলেতে বসন জুড়ে
দন্তে তৃন ধরি দুই হাতে ॥
নত জানু হয়ে সদা, ভূমে পড়ি লুটিমাথা
দাও জ্ঞান পঞ্চ পঞ্চাশৎ।
নহি মুনি সুখ, ব্যাস, নাবাল্মিকী, কালিদাস,
শ্রী তারক কবি রসরাজ ॥
হরি লীলা লেখকেরা, বর পুত্র ছিল তারা,
তারা সবে পেল আশীর্বাদ।
পুত্র হব আমি তব, তুমি হবে মাতা মম,
লিখিব লিখাবে ধরে হাত ॥
যেমতি পুত্রের মাতা, হাতে ধরে তালপাতা,
পুত্রেরে শিখায় বর্ণমালা।
তেমনি প্রকারে তুমি, হরি লীলাগ্রন্থখানি,
লিখিতে করনা অবহেলা ॥
কল্পনার এ জগতে, সবকিছু সত্যবটে,
তুমি সত্য সত্য তব লীলা।
অন্তহীন তব লীলা, ভক্ত হৃদে দেয় দোলা,
কেবল প্রেমভক্তির খেলা ॥
বেলা কিম্বা অবেলাতে, দেখাদেও ভক্ত হৃদে
হলে চিত্তশুদ্ধ দেল খোলা।
বসাইয়ে হৃদাসনে, পুজেকত ভক্ত জনে,
বসিয়া নিরজনে একেলা ॥
বড়সাধ জাগেমনে, পুজিতে রাঙ্গা চরণে,
মন্ত্র তন্ত্র কিছুই না জানি।
এ পূজা নয় সে পূজা, লাগেনা নৈবেদ্যকলা,
ব্রাহ্মণ্যবাদ, তাহা নাহি মানি ॥
এ দেহ জংলাভূমি, পতিত ময়লা জমি,
নিজগুনে দয়াকর তুমি ॥
ভক্ত প্রতি দয়া কর, নিজ হাতে ঝাড়– ধর,
পরিচ্ছন্ন কর দেহ ভূমি ॥
ছোট্ট হৃদয়ের কোনে, অজ্ঞানের বেদীমুলে,
দাড়াও মা সুবর্ণা এবারে।
তব জ্যোতির আলো, দেহ কোনে দ্বীপ জ¦ালো,
সে আগুনে পোড়াও সবারে ॥
দশে ছয়ে ষোল জনা, পুড়ে তারা হবে সারা,
পুনঃজন্মে নিবে গোপীকুলে।
সাজিয়া গোপিনীবেশে, নানা জাতি ফুল তুলে,
গেঁথে মালা মালাতে সাজাবে ॥
মা, তব আচল খানা, শিরেতে ঘোমটা টানা,
দিয়ে মালা যতনে সাজাবে।
মালার উপরে মালা, মস্তকেতে দিলে তারা,
চূড়া রূপে তখনে শোভিবে ॥
ললাটের মধ্যভাগে, আলক্ত করবী ফুটে,
শোভা পাবে ত্রিনয়নী রূপে।
সুবর্ণ চাঁপার ফুলে, ছোট ছোট মালা গেঁথে,
দুকর্ণে দিবে ঝুমকা করে ॥
কুসুম পরাগ নিয়ে, রঙ্গীন অভ্রবানিয়ে,
দুই গন্ডে দিবে মাখাইয়ে।
হবে চাঁদের জ্যোৎস্না, পরাগের আলপনা,
মুখচন্দ্রে চন্দ্রিমা শোভিবে ॥
হরিনী নয়না ভ্রুতে মনো-কালিমা তুলিতে,
কজ্জলের রেখা দিবে একে।
চামিলী বেলীতে মিলে-মালা গেঁথে দিবে গলে,
থরে বিথরে দিবে সাজায়ে।
দক্ষিণের সমীরনে, হীল্লোলে কল্লোলে দুলে,
দেখাবে সুরবালা ভূতলে ॥
বাহুতে বাজুবন্ধন, হস্তেতে শে^ত কঙ্কন,
মালায় মালা দিয়ে সাজাবে।
রক্ত গাঁদার ফুলে, নুপুর বানিয়ে পদে,
দিবে মালা আনন্দ হৃদয়ে ॥
গোপীদের বহিরঙ্গ, আছে যত রঙ্গব্যঙ্গ,
মনের মাঝেতে দোল্যমান।
তুলে রং তুলি দিয়ে, দিবে বিংশতি নখে,
হবে কোটি চন্দ্রের সমান ॥
ব্রহ্মময়ী মুর্তি হেরে, গোপীগন চিত্তসুখে,
আনন্দেতে নৃত্য গীতে রবে।
এ খোকার স্পর্ধাভরি, যেতে চায় শান্তিপুরী,
অষ্ট পাশ দুর হবে কবে ॥
তুমি যাবে শান্তিপুরে, যুগল মুরতী ধরে,
দাড়াইবে পদ্মনাভ বামে।
যুগল মিলন দেখে, মন সাধ মিটাইয়ে,
মহা ঘুমে ঘুমাইয়া রবে ॥