শ্রী শ্রী হরি লীলামৃত (আদি খন্ড পর্ব ০১)

শ্রী শ্রী হরি লীলামৃত

আদিখন্ড।

ওঁ শান্তি হরি চন্দ্রায় নমঃ নমঃ নমঃ।


হরিবল, হরিবল, হরিবল। শ্রদ্ধেয়, ভক্ত মন্ডলী! শ্রী শ্রী হরি লীলামৃত গ্রন্থ খানিগদ্য আকারে লিপিবদ্ধ করিতে যাইয়া মম হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার হইতেছে। পবিত্র ময় শ্রী হরির লীলা উপাখ্যান বর্ননা করিতে যাইয়া হস্তদ্বয় কম্পমান হইতেছে। কারণ যে লীলামৃত গ্রন্থখানি রচনা করিতে শ্রীমৎ তারক গোস্বামী, নিজেই অক্ষমতা প্রকাশ করিয়া ছিলেন। সেই শ্রী শ্রী হরি লীলামৃত গ্রন্থ খানি আমি মুঢ় ব্যক্তি দিগের ন্যায়, মাতা সুবর্ণা ঠাকুরানীর মুখের কথা মুখে থাকিতেই অকপটে স্বীকার করিয়াছিলাম। আমি এতই মূর্খ যে, একবার ও ভাবিয়া দেখি নাই ইতি পূর্বে শ্রীধাম ওড়াকান্দি এবং বিভিন্ন দেশ বিদেশের ভক্ত বৃন্দগন হইতে যাহারা স্বর্ণ পদকাদি অলঙ্কারে ভূষিত রহিয়াছেন। যাহারা শিক্ষা দীক্ষায় জ্ঞান গরিমায় মতুয়া সমাজের উচ্চ স্তরের সাধক লেখক হইয়া, শ্রীধাম ওড়াকান্দি এবং ওপার বাংলার শ্রীধাম ঠাকুর নগরের মতুয়া সমাজকে উন্নতির শিখরে পৌছাইয়া দিতে বহু বহু গ্রন্থাদি রচনা করিয়া, মতুয়া ভক্ত দিগের নিকটে স্মরনীয়, পূজনীয় হইয়া রহিয়াছেন।সেই সমস্ত শাস্ত্রজ্ঞ সাধুগুরু পন্ডিত দিগের ক্রীত দাসরূপে চরণ সেবার পরিবর্তে, তাহাদের সভামধ্যে উপবেশন করিবার ধৃষ্টতা নিতান্তইগল্প কাহিনী কূপ মন্ডুকের ন্যায় কল্পনা করা। [পাত কুয়ার মধ্যে থাকা ব্যাঙটি ঐ কুয়াকে ব্রহ্মান্ড বলিয়া মনে করিত।]

এখন এই গ্রন্থখানি লিখিতে বসিয়া মনে হইতেছে ভক্ত সমাজে উপহাসের পাত্র করিবার জন্য, ভাগ্য বিধাতা সেই দিন এই  জ্ঞানটুকু  প্রদান করেন নাই যে, ইতি পূর্বে পশ্চিম বঙ্গের কোন এক শহরের উপকন্ঠে বসবাস কারী কোন এক মহাত্মা, এই ‘‘লীলামৃত’’ গ্রন্থখানি গদ্যাকারে লিপিবদ্ধ করিয়া ভক্ত সমাজে সমাদৃত হইয়া রহিয়াছেন। তাহা ছাড়া বর্তমানে এপার বংলার বাঘেরহাট জেলার রামপাল উপজেলাধীন বাঁশতলী গ্রামের মহাত্মা বিষ্ণুপদ বাগচী মহাশয়, যিনি বহু বহু সংস্থা হইতে ¯ স্বর্ণপদকাদি প্রাপ্ত হইয়াছেন। তিনিও এই শ্রী শ্রী হরি লীলামৃত গ্রন্থের মধ্য হইতে অনেক অনেক মহাত্মাদিগের জীবন উপাখ্যান লিপিবব্ধ করিয়া ভক্ত সমাজে প্রকাশ করিয়াছেন। পরবর্তী কালে আরও অন্যান্য ভক্ত দিগের জীবন বৃত্তান্ত প্রকাশ করিতে প্রবৃত্ত রহিয়াছেন। তাই দুরু দুরু বক্ষে কম্পিত হস্তে কেবল মাত্র ৮ম শ্রেনী পাশের নির্বোধ ক্ষুদ্র জ্ঞানের পরিসরে, মতুয়াচার্য বাবা পদ্মনাভ ও মাতা সুবর্ণা ঠাকুরানীর সেই ইচ্ছাকে পূর্ণ করিতে পারিব, না অপূর্ণ থাকিয়া যাইবে?

সেই অকুলের কান্ডারী বাবা পদ্মনাভ ও মাতা সুবর্ণা ঠাকুরানীর অশেষ করুনার দানে এই শ্রী শ্রী হরিলীলামৃত গ্রন্থখানি সাধুও চলিত ভাষার মিশ্রনে,গদ্যাকারে নব নবায়ন রূপে প্রকাশ হইয়া, সহস্র সহস্র ভক্তের মধ্যে  যদি একটি মাত্র ভক্তের জীবনে আলোকপাত করিতে সাহায্য করে, তাহা হইলে এই অধমের অক্লান্ত পরিশ্রম সার্থক হইবে।

যাহা হউক এই জগতে প্রতিটি সন্তানের প্রকৃত কর্তব্য পিতা মাতার আদেশ পালন করা। তাই সাক্ষাৎ দেবতা। মহা মতুয়াচার্য শ্রী শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুর ও সাক্ষাৎ ভগবতী অংশে জন্ম দেবী সুবর্ণা ঠাকুরানীর কৃপার আশীষ মস্তকে ধারন করিয়া, এই শ্রী শ্রী হরিলীলামৃত গ্রন্থ খানি গদ্য আকারে লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়া, সর্ব্বাগ্রে স্বীয় জনক, জননী ও স্বীয় গুরু পিতা মাতার চরনে জানাইতেছি অসংখ্য অসংখ্য বার প্রনতি । আমি প্রনাম জানাই সেই অনাদির আদি শ্রী শ্রী হরিচাঁদ শান্তি মাতা ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ সত্যভামা ও ভগবান শ্রী শ্রী গুরুচাঁদের পরবর্তী কাল হইতে অদ্যাবধি যাহারা শ্রীধামকে অলংকৃত করিয়া রাখিয়াছেন। আমি আরও প্রণাম জানাই শ্রী ধামের একান্ত অনুরাগী ভক্ত মন্ডলী শ্রীমৎ গোলোক, তারক,লোচন, হীরামন, মৃত্যুঞ্জয়, দশরথ, বদন চাঁদয়াদি নাম না জানা অগনিত মহাত্মাদিগের শ্রী পাদ পদ্মে। আমি প্রণাম জানাই এই অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের সমুদয় দেবতা গন্ধর্ব কিন্নরাদি ও সমুদয় ভক্ত মন্ডলীর শ্রী পাদ পদ্মে।তাঁহারা যেন আমার এই হীনতম স্পর্দ্ধাকে ক্ষমা করিয়া শুভ আশীষ প্রদান করেন। পরিশেষে আমি আবার ও নতজানু হইয়া প্রণাম নিবেদন করিতেছি, সেই মহাত্মা শ্রীমৎ তারক গোস্বামীর শ্রীপাদ পদ্মে। তাঁহার চরনে এই মিনতি রহিল, হে স্বামীন! তুমি যেখানে যে দেশে থাক না কেন, অধম পামর দুরাচারী এই মুঢ়ের হৃদয় অসনে উপবেশন করিয়া তোমারই রচিত লীলামৃত গ্রন্থ খানির গুড় রহস্য গুলির ভাবতত্ত,¡ তুমি আমার মধ্যদিয়া প্রকাশ করিয়া এই গ্রন্থখানি নব নবায়ন রূপে, সকল ভক্তের নিকটে গ্রহনযোগ্য করিয়া দাও।

পরবর্তী পর্ব 

শ্রী শ্রী হরি লীলামৃত (আদি খন্ড পর্ব ০১)

Newer Post
This is the last post.

Post a Comment

[blogger]

Author Name

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.